আমরা কারা ও আমাদের লক্ষ্য

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের আইনী অধিকার রক্ষায় উৎসর্গীকৃত একটি অগ্রগামী সোসাইটি।

আমাদের পথচলা ও আদর্শ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে এবং তথ্য প্রকাশকারীদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে “জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন” এবং ২০১৭ সালে এর সংশোধনী পাস হয়।

এই ঐতিহাসিক আইনের মূল চেতনাকে বাস্তবে রূপদান করতেই গঠিত হয়েছে “জনস্বার্থে দুর্নীতি দমনে তথ্য প্রকাশকারী (হুইসেল ব্লোয়ার) সোসাইটি”। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতন নাগরিকরাই সমাজের আসল প্রহরী। আমাদের সংগঠনের প্রতিটি প্রতিনিধি বা তথ্য সংগ্রহকারী এক একজন সাহসী ‘হুইসেল ব্লোয়ার’, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

আমাদের ৩টি মূল লক্ষ্য ও আদর্শ

তথ্যের সত্যতা ও অনুসন্ধান (Integrity & Investigation

নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধান করা এবং দেশের আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন ও প্রকাশ করা।

বিনামূল্যে আইনী ও মানবিক সেবা (Legal Aid & Human Support

সমাজের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য আদালতের আইনী লড়াই থেকে শুরু করে আশ্রয়ন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

হুইসেল ব্লোয়ারদের পূর্ণ সুরক্ষা (Protection of Whistleblowers)

জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে কেউ যেন প্রতিশোধমূলক হয়রানি, প্রশাসনিক জটিলতা বা সামাজিক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে না পড়েন, তার জন্য আইনী ও প্রশাসনিক লড়াই করা।

রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয়

আমাদের কার্যক্রমকে বেগবান ও শতভাগ আইনী কাঠামোর মধ্যে রাখতে আমরা নিয়মিত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সাথে সমন্বয় করি। সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত বিভিন্ন স্মারক ও আদেশের আলোকে আমরা প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়ে থাকি। এছাড়াও দেশের বিজ্ঞ আইনজীবী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আমরা সমাজ থেকে অনিয়ম দূর করতে কাজ করি।

কেমন সমাজ আমরা দেখতে চাই?

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্বাসী, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার মৌলিক অধিকার ফিরে পাবেন, দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং যেকোনো সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারবেন। একটি বৈষম্যহীন, সুশাসিত এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য।